মেঘের রাজ্যে আমাদের ঠাই

মেঘের রাজ্যে আমাদের ঠাই

বাংলাদেশে থাকেন অথচ সাজেক ভ্যালির গুণগান শুনেননি এরকম মানুষ খুব বেশি হয়ত হবেনা। দেশের সবথেকে বড় ইউনিয়ন হলো সাজেক। রাংগামাটিতে অবস্থিত সাজেক কে মেঘের রাজ্য বলা হয়। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে এর সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত উপভোগ করা। চলুন দেখে আসি সাজেক কত মাধুর্যের অধিকারী।

বাসা থেকে হঠাৎ করেই ৩ বন্ধুর প্ল্যান করে চলে আসা এবং সাথে সাথেই হোটেল বুকিং। অফসিজন থাকায় বুকিং পেতে কোনো সমস্যা হয়নি আমাদের। রাতে বাস নিয়ে গেলাম খাগড়াছড়ি এবং সেখান থেকে শাপলাচত্বরের বুকিং দেয়া হোটেল রুমে। আমাদের এখান থেকে সাজেক যেতে হলে ধরতে হবে সকাল ১০টার আর্মি স্কট। তাই সকালে সময়মত পৌছে যাই আমরা। রওনা হয়ে বাঘাইছড়ি পৌছে যায় ১০টার ভিতর। নাম রেজিস্ট্রেশন করে স্কটে করে সাজেক পৌছে যায় ১২টার দিকে। এখানেও আগে থেকে হোটেল বুকিং দিয়ে রাখার কারণে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয়নি আমাদের। এখানের আরেকটি বিষয় যে, সাজেকে পানির দাম অনেক বেশি হওয়ায় পানি খাগড়াছড়ি থেকে নিয়ে সাথে রাখা ভালো।

হোটেল থেকে ফ্রেশ হয়ে নেমে পড়লাম ভুড়িভোজের প্রতিযোগিতায়। এখানে হোটেলগুলোর ভিতর পেদা টিং টিং, মনটানা সহ আরো হোটেল হাতের কাছে থাকলেও সবগুলোতেই খাবারের জন্য বেশ অপেক্ষা করতে হবে আপনাকে। এখানকার যেকোনো হোটেল কমপক্ষে ১ঘন্টা সময় নেয় খাবার পরিবেশনে । আর গরুর মাংস খেতে হলে অর্ডার করতে হবে ১দিন আগে থেকে। সময়ে একটু বেশি লাগলেও সাজেকের মত জায়গায় তা খুব খারাপ সময় কাটবেনা। খাবার শেষে বের হয়ে গেলাম চাদের গাড়িতে করে। সূর্যাস্ত দেখতে হবে। মাটি থেকে ১৮০০ ফুট উঁচু থেকে উপভোগ করতে হবে সূর্যের শেষ উপস্থিতি।

এর মাঝে হঠাৎ করেই আমার ট্যুরের বারোটা বাজিয়ে দিলো আমার ফোনের একটিমাত্র নোটিফিকেশন। মোটামুটি নিরাপত্তা সচেতন হওয়ায় আমি স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি। এবার নোটিফিকেশন আসলো যে আমার পার্সেল ডেলিভারি আসছে। সাজেকের এক্সাইটমেন্টে ভুলেই গিয়েছিলাম আমার পার্সেলের কথা। পার্সেল ছাড়াও বাসায় আসা-যাওয়া লোকজনদের ঠিকঠাক দেখাশোনার জন্য Rokkhi অ্যাপটি আমার প্রতিদিনের কাজে বেশ কার্যকরী। পার্সেলে আমার কাজের জরুরি ডকুমেন্টস থাকায় একরকম দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম বাকি ট্রিপ নিয়ে।

পরের দিন খুব সকালে সূর্যোদয় মিস করা মানে সাজেক ভ্রমণটাই মনে হবে বৃথা। সকালে সূর্যোদয় উপভোগ করার কিছুক্ষণ পর নাস্তা শেষ করে আমরা বের হলাম খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে। সেখান থেকে তাড়াতাড়ি আলুটিলা গুহা এবং তারাং শেষ করে একই পথ ধরে বেরিয়ে পড়লাম ঢাকার উদ্দেশ্যে।

বর্ষাকালে সাজেকের সৌন্দর্য আরো বৃদ্ধি পায়। প্রকৃতির আপরূপ সৌন্দর্য পরিপূর্ণতা পায়। মেঘের সাথে খেলা করার সুযোগ হয়। যদিও এই ট্রিপ অপূর্ণ থেকে গেলো ব্যস্ততা কাটিয়ে আবার ফিরে এসে নতুন করে উপভোগ করার অপেক্ষায় রয়েছি প্রিয় সাজেককে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *